
নেপালের ভয়াবহ বন্যার পর নদীর ভাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালগুলোর মর্গে জায়গা না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্যমতে, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোটেকোশী নদীর বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষের মরদেহ রাসুয়া ও নুয়াকোট থেকে শুরু করে চিতওয়ান, তানাহুন ও নওয়ালপরাসিসহ ভাটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার হচ্ছে। চিতওয়ানে ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে।
মর্গে জায়গার সংকট দেখা দেওয়ায় ভরতপুরে প্রায় ২৫০টি মরদেহ ধারণক্ষমতার একটি অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মরদেহ দ্রুত পচন রোধে সেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও শুকনো বরফ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পোখারাসহ বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালেও একই সংকট দেখা দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক মরদেহ আসায় অনেক হাসপাতালের মর্গ তাদের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে উদ্ধার হওয়া মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও অন্যান্য শহরের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্রগুলোতে ছুটে আসছেন। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ মরদেহের ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ সংগ্রহ, ময়নাতদন্ত এবং প্রয়োজন হলে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলোর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভয়াবহ দুর্যোগের কয়েক দিন পরও নদীর তীর ও ভাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ অব্যাহত রয়েছে।